নিজস্ব প্রতিবেদক: আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা আমের ফলন বৃদ্ধি করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে অর্থাৎ গাছে আমে ব্যাগিং পদ্ধতি শুরু করেছে। ফলে একদিকে অধিক হারে গাছে আম আটকাচ্ছে। অপর দিকে আমে পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা হচ্ছে র। এ ছাড়া আম ফেঁটে, ও পঁচে নষ্ট না হওয়াসহ আমের রঙ আর্কর্ষনীয় হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীকে আমের জন বিখ্যাত বলা হলেও আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত চার-ঘাট ও বাঘা। এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল আম। মাটির গুনগত কারণে এ অঞ্চলের আমের সু-খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। এখানকার আম গত কয়েক বছর থেকে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে পাঠানো হচ্ছে। বিদেশে পাঠানো অমের মধ্যে রয়েছে, গোপাল ভোগ, হিমসাগার, আম্রপালি, ল্যাংড়া ও ফজলি। তবে কভিড-১৯ এর কারণে গত বছর চাহিদা মতো আম বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
উপেজলার বাগান মালিক ও পাকুড়িয়া এলাকার আশরাফু-দৌলা, বানিয়া পাড়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম এবং বাঘা সদরের মুক্তার হোসেনসহ অনেকেই জানান, এ অঞ্চলে আমের জন্য অফ-ইয়ার ও অন-ইয়ার রয়েছে এ বছর আমের অন-ইয়ার। এ জন্য অনেক ব্যবসয়ী আগ্রীম আমের বাগান কিনেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আম পরিপক্ষ হওয়ার আগে গত কয়েক বছর থেকে আমে পলিপ্যাক (এক ধরনের কাগজের ঠোঙ্গা) জড়িয়ে দিচ্ছে অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী। এতে একদিকে যেমন আম ফাটা ও পোকা ধরা বন্ধ হচ্ছে অপর দিকে সাধারণ খোলা আমের চেয়ে এ আমের রঙ হচ্ছে চোখে ধরার মতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, আমে ব্যাগিং পদ্ধতির ফলে কোন ক্ষতি নেই এতে আমের রঙ ভাল থাকে। ফলে চাহিদার সঙ্গে আম বিক্রিয় হয়। তবে অধিক ফলনের আশায় গাছের শিকড়ে হরমন ব্যবহার করা সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ। এতে গাছ মারা যেতে পারে। তবে কোন কৃষক যদি স্বল্প পরিমান হরমন প্রয়োগের পাশা-পাশি বাগানে পরিমান মতো রাসায়নিক ও জৈব সার ব্যবহার কর সে ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা কম হয়। রাজশাহী মহানগরসহ ৯ টি উপজেলায় বর্তমানে ১৭ হাজার ১৩৯ হেক্টর জমিতে আমের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বাঘা উপজেলাতেই আমের গাছ রয়েছে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। তিনি আরো বরেন, মাটির গুনগত কারণে এ অঞ্চলের আম তুলনা মূলক সুস্বাধু। এজন্য ঢাকা, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্যগ্রাম বিভাগে যেসব আমের আড়ৎ রয়েছে সেখানে বাঘার আমের চাহিদা ও দাম অন্য এলাকার চেয়ে বেশী। এখানকার প্রধান অর্থকারি ফসল আম। উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরকারি ভাবে আম উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে, ১ লক্ষ ২ হাজার মেট্রিকটন । তবে ব্যবসায়ী ও বাগান মলিকরা বলছেন, এ বছর ফলন দ্বিগুন হবে।