পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাচ্ছেন আসপিয়া ইসলাম—এই খবরে তার পরিবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। এবার ঘুচে যাবে অভাব। কিন্তু হঠাৎ জানা গেল, সব ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরিটা হচ্ছে না।
কারণ?
ডিআইজি জানান, নিজেদের জমি না থাকলে চাকরি দেওয়ার আইন নেই।
এরপর ভাঙা মন নিয়ে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত পুলিশ লাইন্সের সামনে বসে থাকেন আসপিয়া।
সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেছে সে। ১৫ বছর ধরে উপজেলার খুন্না-গোবিন্দপুর গ্রামের একজনের জমিতে আশ্রিত হিসেবে থাকছে তার পরিবার। আসপিয়ার বাবা সফিকুল ইসলাম মারা গেছেন। পরিবারে তারা তিন বোন, এক ভাই ও মা।
আসপিয়া শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষাও উত্তীর্ণ হয়। মৌখিক পরীক্ষায় পঞ্চম হয় সে। স্বাস্থ্য পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয় সে। চূড়ান্ত নিয়োগের আগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আসপিয়া ও তার পরিবারকে ‘ভূমিহীন’ উল্লেখ করা হলে তার চাকরি হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
আসপিয়া বলে, ‘আমি যোগ্যতাবলে সাতটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে হিজলা থানার ওসি জানান, চাকরি পেতে হলে নিজেদের জমিসহ ঘর দেখাতে হবে। জমি নেই বলে আমার চাকরি হবে না—এটা বিশ্বাস হচ্ছিল না।’
আসপিয়া বোনটি চাকরি পাক, জমি নেই বলেই চাকরিটা ওর বেশি প্রয়োজন। প্রয়োজনে এই আইনের সংশোধন চাই।