নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নাটোরের লালপুর উপজেলার ৮ নং দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন ভেল্লাবাড়ীয়া আব্দুল ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল দশা,যেন দেখার কেউ নাই।
সরেজমিনে বরিবার(১৯শে জুন)দুপুর ১২ টার দিকে অত্র বিদ্যালয়টির মাঠ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে,স্কুল শিক্ষকদের বসার রুমসহ মাত্র ৪টি পাকা রুম,যেখানে নেই কোন মেয়েদের কমন রুম,নেই টয়লেটের কোন সু ব্যাবস্থা।চোখে পড়েনি স্কুলের ব্যানার বা সাইন বোর্ড।
এ বিষয় গুলো নিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন,আমি আমার স্কুলের বিষয় নিয়ে মিডিয়ায় কোন কথা বলবো না,স্কুলটি শিক্ষা দপ্তরের নিয়ম অনুসারেই পরিচালিত হয়ে আসছে বলে সাফ কথা জানিয়ে দেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন,ভেল্লাবাড়ীয়া আব্দুল ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি,স্কুলের নাকি বিল্ডিং হওয়ার কথা ছিল,যার সূত্র ধরে প্রধান শিক্ষক এনামুল হক ৪টি পুরাতন শ্রেণী কক্ষ, মেয়েদের কমন রুম, ব্র্যাক ওয়াস কর্মসূচীর টয়লেট সব কিছু নিলামে বিক্রি করে দিছে প্রায় ২ বছর আগে। এখন দেখি বিল্ডিংও নাই কিছুই নেই।ছাত্র/ছাত্রীরা অনেক কষ্ট করে কখনো কদম তলায় বসে,কখনো বা রুমের মধ্যে পর্দা টানিয়া দুই ক্লাসের পাঠদান এক সাথে চলে।
ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবকের পক্ষ থেকে ৩/৪ জন ব্যাক্তি বলেন, ভেল্লাবাড়ীয়া আব্দুল ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিল্ডিং হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বিল্ডিং এর কাজের কোন কাগজপত্র হাতে না পাওয়ার আগেই ১মাসের মধ্যে বিল্ডিং এর কাজ শুরু হবে মর্মে হেড মাষ্টার এনামুল হক নিলামের ডাকে বিক্রি করে খেয়ে ফেলেছেন যার কারণে ক্লাস রুমের সংকটে ছাত্র/ছাত্রীদের বেহাল দশা।
তারা আরও বলেন,অত্র স্কুলের স্যানিটেশন ব্যাবস্থাও স্বাস্থ্য সম্মত নয়।টয়লেটে নোংরা, যত্নের অভাব, দরজাও নেই, একে বারে পরিত্যক্ত।
এসব বিষয়ে দেখার তো কেউ আছে বলে মনে হয়না,আপনাদের জানিয়ে কি করবো।যাদের দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তারাই দেখে না।
উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম মক্কেল মাষ্টার বলেন,আমি সভাপতি ছিলাম কিছু দিন আগে কমিটির বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে,এ সকল বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করেন।
লালপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,বিষয়টি খুব দ্রুতই আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিশেষে,একটি বিদ্যালয়ের দৈন্ন্য দশা আর শিক্ষা বিভাগ হাত গুটিয়ে বসে আছে এটা হতে পারে না।একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কি কি সমস্যা আছে,যার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নি হচ্ছে সেটা দেখার দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসার বা শিক্ষা বিভাগের,আর ভবন নির্মাণ ইমারত বিভাগের। কিন্তু তারা রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে গেছে, কিন্তু কেন?এ অঞ্চলের সতেন মহল এ স্কুলের সকল সমস্যার দ্রুত নিরসনের দাবী করেন।
Tags
শিক্ষা
