বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :আম মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় দশ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। আম বাগান পরিচর্যা, সংগ্রহ ও পরিবহন, বিক্রিসহ অন্যান্য ধরনের কাজে যুক্ত হন তারা। সারাবছরে তাদের আয়ের অন্যতম মৌসুম এটি।
রাজশাহীর আম মানেই বাঘা উপজেলা।রাজশাহী জেলার আমের প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হয় এ উপজেলায়।প্রতিবছর এ উপজেলায় এক লক্ষ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আমের মধ্যে ফজলি, হিমসাগর (খিরসাপাত), গোপালভোগ, মহনভোগ, ল্যাংড়া বিখ্যাত। এছাড়া বৌ-ভোলানি, রাণিপছন্দ, জামাই খুশি, বৃন্দাবন, তুতাপরি, লক্ষণভোগ, বোম্বাই, দাউদ ভোগ, সিন্দুরি, আমরুপালী, আশ্বিনা, ব্যানানা, মল্লিকা,কপালভোগ,বৈশাখী,
ক্ষিরসাপাত, কালীভোগসহ শতাধিক জাতের আম রয়েছে।
মেসার্স শাহাদৌলা ফল ভান্ডারের দুলাল হোসেন বলেন- এ-ই বছর আমের মুল্য অন্যান্য বছরের থেকে অনেক কম। বাজারে আমের চাহিদা নেই বললেই চলে। মুকাবে আমের চাহিদা তেমন নেই এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন।আমের দাম এত কম কেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন - বাজারে আমের আমদানি বেশি। সে তুলনায় ব্যবসায়ীরা কম এসেছেন। ক্রেতা কম থাকায় আমের দামও তুলনামূলক কম।
রবি শেখ, বাঘা পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বালিকা বিদ্যালয়ের দক্ষিণে পাইকারী ও খুচড়া আম বিক্রেতা জানান, এ বছর শ্রমিকদের মজুরি, সার ও কীটনাশক বেশি দিতে হয়েছে। ফলে আম উৎপাদনে খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বাজারে না আসা পর্যন্ত আমরা ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হব।মুকামে হিমসাগর ( খিরসাপাত) আমের চাহিদা ব্যতীত অন্যান্য আমের তেমন চাহিদা নেই। বাজার খবর নিয়ে জানা যায়, ২সপ্তাহ আগে হিমসাগর আম ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪০-৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবুও এ-ই আম ছাড়া বাকি আমের মুল্য পাচ্ছে না ব্যবসায়ী গন।এছাড়া কয়েক গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে অনলাইন আমের ব্যবসা অনেকগুন বেশী। এই করোনার কারণে বাজারে প্রায় ক্রেতা শুন্য।বাজারে নকনা আম ২০-২২ প্রতি কেজি ও ন্যাংড়া আম ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমের এমন দাম তাদের ব্যবসার প্রতি আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। আমের দাম বছর পার হচ্ছে কম হচ্ছে। এমন ভাবে চললে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ঋণের চাপ মাথায় উঠবে। দেশে যে কয়েকটি আমের মোকাম রয়েছে, সবগুলোয় একই সঙ্গে আমবাজারে উঠেছে ও মোকামগুলো চালু হয়েছে। বাজারে আম বেশি থাকলেও ক্রেতা কম রয়েছে।
বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারি,এক সপ্তাহ আগে যে বাগান ষাট হাজার টাকা দাম বলেছিল।আজ ৮মে সেই বাগান চল্লিশ হাজার টাকায় নিতে চাই না।কয়েক বছরের মধ্য এ বছর আমের সবচেয়ে কম।এ ভাবে চলতে থাকলে হয়তবা সামনে বছর গুলোতে আম চাষ বন্ধ করে অন্য কিছু করতে।
সর্বপরি এ-ই বছরে রাজশাহীর বাঘায় ব্যাপক আমের উৎপাদন হয়েছে তার যদি সঠিক দাম আম চাষিরা পেতো তাহলে তারা অনেক লাভবান হত।কিন্তু আমের চাহিদা অন্যান্য বছরের মত এ বছর কম।
Tags
ব্যবসা
