লিয়াকত হোসেন রাজশাহী ব্যুরোঃ পবার কাঁটাখালী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের চরশ্যামপুর মিজানের মোড় এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাজিউর রহমানের ছেলে আবুল কালামের বাড়ি ভাঙ্গচুর ও স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের মারপিট করে আহত করেছে। সেইসাথে বাড়ির দরজা, জানালা, শোকেস ও ভ্যান্টিলিটার ভাঙ্গচুর এবং বাক্স ভেঙ্গে নগদ দুই্ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে কালামের স্ত্রী নাসিমা বলেন। তিনি বলেন, গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে তাদের বাড়ির পার্শবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার ১২ বছরের ছোট ছেলে লালন খেলাধুলা করছিলো। এসময়ে একই এলাকার আনারুলের ছেলে বিজয় (২০) খেলার বিষয় নিয়ে মেরে চোখ ও মুখ ফুলিয়ে দেয়।
নাসিমা বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানতেন না। এসময়ে তিনি পার্শবর্তী বউ বাজারে ছিলেন। বাজার থেকে ১১টার দিকে বাড়ি ফিরে আসতেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তিনি মাঠেই তার ছেলেকে কেন মেরেছে জানতে চাইলে বিজয় ক্ষিপ্ত হয়। এরপরে বিজয় দৌড়ে বাড়ির দিকে যেয়ে হায়দারের ছেলে সুজন, দেনাজ এর ছেলে অনিক, তার ছোটভাই পাপ্পু ও বড় ভাই সাইরুলসহ তার আরো বেশ কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, যেমন- হাঁসুয়া, চাপাতি, পাশলি ও চাইনিজ কুড়ালসহ বাড়িতে প্রবেশ করে তান্ডব চালিয়ে সব ভাঙ্গচুর ও টাকা নিয়ে যায়।
নাসিমা আরো বলেন, বাধা দিতে গেলে তাকে তার মেয়ে মৌসুমী এবং ভাগিনা বাদলকে মারপিট করে। এছাড়াও তার বড় ছেলে শাকিলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার মাথাসহ বিভিন্ন স্থান কেটে ফেলেছে। শাকিল এখন রাজশাহী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন বলে জানান মা নাসিমা। এদিকে শাকিলের বাবা আবুল কালাম বলেন, তাদেরকে মেরে ফেলার জন্যই হামলা করা হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে এই ধরনের হামলা কোনভাবেই কাম্য নয়।
কালাম বলেন, মতিহার থানায় এ বিষয়ে মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃৃপক্ষ মামলা না নিয়ে ছেলেকে আগে চিকিৎসা করার কথা বলেন। তবে তার নাম লিখে রেখেছেন বলে জানান কালাম। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নি বলে জানান কালাম। তিনিসহ পরিবারের সবাই ঐ সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।
ঘটনা সম্পর্কে এবং মামলা কেন নেয়নি সে সম্পর্কে জানতে চাইলে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন না। কারন নির্বাচন নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকায় সারাদিন থানাতে ছিলেন না। তবে সেকেন্ড অফিসার থানায় ছিলেন। আগামীকাল নির্বাচন থাকায় তিনি থানাতে থাকতে পারবেন না। সোমবার (২৯ তারিখ) থানায় এসে মামলা করতে বলেন তিনি। সেইসাথে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।