হাবিল উদ্দিন,বাঘা,রাজশাহীঃ আম স্বাদে ও গন্ধে খুবই আকর্ষণীয় ফল। ফলের গুণগতমান ও বহুবিধ ব্যবহারের কারণে প্রায় সব মানুষের কাছে এটি সমানভাবে সমাদৃত।
ভারতীয় উপমহাদেশে এই জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বেশিরভাগ আম গাছ বীজ থেকে হয়। ফলে বীজের গাছ হতে ভাল জাতের আম পাওয়া সম্ভব হয় না বা মাতৃ গাছের গুনাগুন বজায় থাকে না।
তাছাড়া অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা খারাপ জাতের গাছ দিয়ে বাগানিদের প্রতারিত করে থাকেন। যার জন্য প্রতি বছর বিভিন্ন বয়সের আম গাছ চাষিরা কেটে ফেলেন। কিন্তু অতি সহজেই টপ ওয়ার্কিং এর মাধ্যমে অনুন্নত জাতকে উন্নত জাতে পরিবর্তন করা যায়।
এই পদ্ধতিতে জাত পরিবর্তনের জন্য প্রথমে অনুন্নত জাতের আম গাছকে সমূেলে না কেটে হালকা (২০-২৫সেমি.পরিধির) ডালগুলো কেটে দিয়ে পরে সেখান থেকে যখন আঙ্গুলের মতো মোটা(৫-৬সেমি.পরিধির) ডাল বের হয়।
তখন তাতে কোন উন্নত জাতের সায়ন বা ডাল সংযোগ করে নতুন জাতে রুপান্তর করা হয়। সাধারণত একটি আম গাছের কয়েকটি প্রধান শাখা থাকে। আবার প্রতিটি প্রধান শাখা থেকে কয়েকটি প্রশাখা বের হয়।
শীত শেষে যখন একটু গরম পড়ে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে গাছের দু একটি প্রধান শাখার শাখা প্রশাখা ছেটে ফেলতে হয়।
গাছ কর্তনের পরে গাছে সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সাধারণত দেখা যায়, ডাল কর্তনের ৩০ থেকে ৪৫ দিন পর নতুন শাখা বের হয়।
তবে মাটির অবস্থাভেদে এই সময় কম বেশি হতে পারে। প্রথমে দেখা যায়, কর্তিত অংশ হতে অসংখ্য নতুন কুশি বের হয়।
সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত শাখাগুলো রেখে বাকিগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। গাছের বয়স অনুযায়ী ৫০ থেকে ১০০টি শাখা রাখতে হবে।
ম্প্রতি আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে টপ ওয়ার্কিং প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অনুন্নত আমের জাতকে উন্নত জাতে পরিবর্তনের প্রদর্শনী বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আড়ানী পৌরসভার মোঃ নাসির উদ্দিন স্বপনের বাগানে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, তিন তার বাগানের ৮০ টি লকনা আম গাছে টপ ওয়ার্কিং প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আম্রপালি গাছে পরিবর্তনের জন্য গ্রাফটিং ( কলম) করেছেন। তার বাগানে প্রায় ২০০ টি আম গাছ আছে তন্মধ্যে ৮০ টি গাছ লকনা জাতের। সম্প্রতি লকনা আমের দাম কমে যাওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় তিনি গাছগুলো প্রথমে কেটে ফেলার চিন্তাভাবনা করেন। পরবর্তীতে কৃষি অফিসের পরামর্শে গাছগুলো পুরোপুরি না কেটে প্রধান গুড়ি ( ট্রাংক) পর্যায়ে কেটে দেন। তারপর সেখান থেকে যে নতুন কুশি বের হয়, সেখানে বেছে বেছে সুস্থ সবল কুশিগুলোতে আম্রপালি আমের সায়ন দিয়ে কলম করেন। আর এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী লাভ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাঘা উপজেলায় ২০ টি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ১০০০ টি গাছে টপওয়ার্কিং করছি। ইতোমধ্যে উক্ত পদ্ধতি নিয়ে আম চাষীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে অনুন্নত জাতের আম গাছকে উন্নত জাতের আমে পরিণত করতে পারলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।"
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাঘা উপজেলার ৮০% আমই হচ্ছে লকনা বা লক্ষণভোগ জাতের। লকনা আমের মিষ্টতা কম হওয়ায় বাজারে চাহিদা যেমন কম, অন্যদিকে দামও কম। ফলে, কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেনা। তাই, আমরা চাচ্ছি, পুরনো গাছগুলোতে টপ ওয়ার্কিং প্রযুক্তির মাধ্যমে জাত পরিবর্তন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুন্নত জাতের আম গাছে উন্নত জাতের গ্রাফটিং করা হয়। ফলে, স্থানীয় টক গুটি আম এবং লকনা জাতের আম গাছগুলোকে সহজেই অন্য জাতে রূপান্তর করা সম্ভব।


