রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারকে বদলি করায় উপজেলাজুড়ে চরম প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এতে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে দাপ্তরিক অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্প ও ভূমি সংক্রান্ত সাধারণ নাগরিক সেবা। শনিবার বাঘা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু হওয়া এবং কেবল সুপারভাইজার পদের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন। পরীক্ষা শেষে ইউএনওর পদত্যাগ ও বিচার দাবিতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
বাঘা পৌর শাখা বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তারা ইউএনওর পদত্যাগ ও বদলির দাবি জানান। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর পরদিনই রোববার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ইউএনও শাম্মী আক্তারকে জনস্বার্থে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বদলি করা হয়। এই আদেশের ফলে বাঘার অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ একযোগে খালি হয়ে পড়েছে। মূল দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাঘা পৌরসভার প্রশাসক, আড়ানী পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি বা এসি ল্যান্ড) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় কিংবা তাৎক্ষণিক বিকল্প কাউকেই দায়িত্ব না দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
নিয়োগে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার জানান, সরকারি বিধিমালা ও নীতিমালা মেনেই স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ফলপ্রসূ হতে না পেরে একটি পক্ষ অসত্য অভিযোগ তুলছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্পন্ন করবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি
