নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে করোনা কালীন সময়ে স্কুল কলেজ সহ সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাতেও শিক্ষার্থীর থেমে থাকেনি তাদের ব্যস্ততা। আগে তারা পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেও এ-ই আমের মৌসুমে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আমের ব্যবসা করে সারা দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আমের মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। আম বাগান পরিচর্যা, সংগ্রহ ও পরিবহন, শ্রমিক, বিক্রিসহ অন্যান্য ধরনের কাজে যুক্ত হন তারা। সারা বছরে এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম আম মৌসুম।
রাজশাহীর বাঘা অঞ্চলের আমের মধ্যে ফজলি, হিমসাগর, গোপালভোগ, মহনভোগ, ল্যাংড়া বিখ্যাত। এছাড়া বৌ-ভোলানি, রাণিপছন্দ, জামাই খুশি, বৃন্দাবন, তুতাপরি, লখনা, বোম্বাই, দাউদ ভোগ, সিন্দুরি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ব্যানানা, মল্লিকা, ক্ষুদি খিরসাপাত সহ শতাধিক জাতের আম রয়েছে।
অনলাইন পোর্টাল, নিজের ফেইসবুক টাইমলাইন, ফেসবুক পেজ ও ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারের বিভিন্ন গ্রুপে প্রচারণা চালিয়ে অর্ডার নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনলাইনে অর্ডার, বিকাশে পেমেন্ট আর কুরিয়ারে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।
করোনার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা কম এখন একটি ফোন কলেই একজন ক্রেতা সরাসরি দেখে অর্ডার করছেন। এতে, হাসি ফুটেছে বাগান মালিক ও অনলাইনে ব্যবসায়ী শিক্ষার্থীদের মুখে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক বলেন, সরাসরি আম চাষীদের (বাগান) থেকে ন্যায্য মূল্য দিয়ে আম সংগ্রহ করে সারাদেশে আম সরবরাহ করি উভয়ই লাভবান হচ্ছি ।
আশিক আরও বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের বাঘা-চারঘাট আসনের মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব শাহরিয়ার আলম কে ধন্যবাদ। তিনি স্পেশাল ম্যাংগো ট্রেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বাঘা-চারঘাটের আম ব্যবসায়ীদের । এই ট্রেন সুবিধা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে অনেক সুলভ মূল্য আমরা আম সরবারাহ করতে পারবো। এর ফলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় উপকৃত হবে।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া শরিফাবাদ মহাবিদ্যালয় এর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন,করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তেঁথুলিয়া বাজারে বাবার সাথে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করছি । পাশাপাশি এ বছরে কুরিয়ার সার্ভিস এর সাথে চুক্তি ভিত্তিক সিজিনাল আমের ব্যবসা করছি।
প্রতিদিন বাঘা উপজেলা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সুন্দরবন,কন্টিনেন্টাল, করতোয়া, জননী, ওমেক্স,মেট্রো এক্সপ্রেস, এজেআর ও রেইনবো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতার সাথে আম বুকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে যেমন অর্থ আয় হচ্ছে। অপর দিকে ব্যাস্ততার মাঝে সময়টাও কেটে যাচ্ছে বলে জানা যায় এই অনলাইন আম ব্যবসায়ী শিক্ষার্থীদের।
কৃষি অফিসার সফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘা উপজেলায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার আম চাষ করা হয়েছে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১ লক্ষ মেট্রিক টন।এ বছর বিদেশে ৩০০ টন আম রপ্তানির পরিকল্পনা হয়েছে।গত বছর(২০২০)এখান থেকে কোন আম রপ্তানি হয়নি।তবে তার আগের বছর (২০১৯)বাঘা থেকে ৩৫ টন আম রপ্তানি হয়েছিল বিদেশে।
Tags
ব্যবসা