রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পরও দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। মামলার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে মামলার প্রধান আসামি সাজ্জাদ এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মামলার বাদী রাবেয়া বসরী চম্পা ও তার কিশোরী মেয়েকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অসহায় এই পরিবারটি।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৪ জুন রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তার প্রয়াত বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া বসরি চম্পা। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা পাওয়ার পরিবর্তে তারা উল্টো আরও হয়রানির শিকার হন।
মামলার অভিযুক্ত সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সাজ্জাদ মামলার বাদী রাবেয়া বসরি চম্পা ও তার মেয়ে স্নেহার বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করছেন পরিবারটি। পরবর্তীতে ওই মামলায় আদালত থেকে জামিন নেন মা ও মেয়ে।
এদিকে মামলা দায়েরের পরও আত্ম গোপনে না থেকে দাম্ভিকতার সঙ্গে মামলার আসামি সাজ্জাদ মামলার বাদী ও তার মেয়েকে তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, মামলা তুলে না নিলে আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে—এমন বার্তাও তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে সাজ্জাদ।
স্থানীয়রা বলছেন, নারী নির্যাতনের মতো একটি গুরুতর মামলার আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রকাশ্যে অবস্থান করেই তিনি বাদী পক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এতে তারা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়েও নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি নারী নির্যাতন মামলার অভিযুক্ত যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান এবং বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারেন, তবে আইনের শাসন কতটা কার্যকর হচ্ছে সেটি এখন প্রশ্ন। অভিযুক্ত কি কোনো প্রভাবের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন—এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ বলছে, মামলা হওয়ার পর থেকে সাজ্জাদ পলাতক রয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে ।
