পাবনা জেলা সংবাদদদাতাঃ সাঁথিয়ায় মোটা টাকা যৌতুক নিয়ে বিয়ে অতঃপর নিয়মিত যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে নির্যাতন, তার অনুমতি ব্যতিরেকে দ্বিতীয় বিবাহ প্রতিবাদ করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম স্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে ফেইক একাউন্ট তৈরী,তৈরীকৃত একাউন্টে স্ত্রীর অশ্লীল ছবি (সংসার করা অবস্থায় ধারণকৃত) ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে।এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসাঅ্যাপে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট স্ত্রীর অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ ও অভিযোগের প্রমান মিলেছে অভিযুক্ত স্বামী শেখ আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে পাবনা জেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী-০৫) আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধু মনিরা আক্তার। অভিযোগটি আমলে নিয়ে শুনানীর তারিখ ধার্য করেছে আদালত।এছাড়াও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে আইসিটি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মনিরা আক্তার।
জানা যায়, ২’রা অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ছাতক বরাট গ্রামের মন্টু শেখের মেয়ে মনিরা আক্তারের সাথে ৮ লক্ষ টাকা কাবিনে (যৌতুক ৭ লক্ষ টাকা) সাটিয়াকোলা এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে আশরাফুল শেখের বিবাহ হয়। পরবর্তীকালে ব্যক্তিগত প্রয়োজন দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পুনরায় টাকা দেন মন্টু শেখ। এরপর বিভিন্ন সময়ে নানা বাহানায় যৌতুক দাবি করে আশরাফুল, চাহিদামত যৌতুক না দিলে স্ত্রী মনিরার উপর শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে আশরাফুল ও তার পরিবার। নির্যাতন উপেক্ষা করে মনিরা যখন সংসার চালিয়ে যাচ্ছিল তখন তার অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করে আশরাফুল।এঘটনার প্রতিবাদ করায় গৃহবধু মনিরাকে জোরপূর্বক বাবার বাড়িতে দিয়ে আসে আশরাফুল।বর্তমানে বাবার বাড়ীতে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী মনিরা আক্তার। এতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে আশরাফুল মনিরার অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে প্রচার ও ছড়িয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী মনিরা আক্তার বলেন, বিয়ের সময় আমরা জানতাম আশরাফুল জাহাজে চাকরী করে কিন্তু দীর্ঘ ২ বছর সংসার করে আমি তার কোন প্রমাণ পাই নি। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতো, আমার পরিবার বাধ্য হয়ে তার সকল দাবি পুরন করেছে।এছাড়াও আমার সম্মুখে অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলা ও অন্যান্য অনৈতিক সম্পর্কে নিয়োজিত হতো।আমি প্রতিবাদ করায় আমার উপর নির্যাতন চালাতো। বর্তমানে সে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করছে। আমি তার বিরুদ্ধেমযৌতুক আইনে মামলা করায় সে আমার ছবি ব্যবহার করে ব্লাকমেইল ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি সংসার করতে চেয়েছিলাম কিন্তু মনিরা চায় না।তাদের নিকট থেকে যে টাকা নিয়েছি ফেরত দিব।তবে স্ত্রীর অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ানো বিষয়ে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি তিনি।
